বাংলাদেশকে আবারো বাঁচালো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে আট জেলায় মারা গেছে ১২জন। বিধ্বস্ত হয়েছে উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য কাঁচা ঘর-বাড়ি। উপড়ে গেছে গাছপালা। অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগও। ক্ষতিগ্রস্ত লাকায় উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছে স্বেচ্ছাসেবকসহ বিজিবি, র‌্যাব , পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও সেনাবাহিনী।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়া বইছে। বৃষ্টি হয়েছে দেশের প্রায় সর্বত্র। প্রবল শক্তি নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। শনিবার রাত তিনটার দিকে বুলবুল লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সুন্দরবন ও আশপাশের জনপদ। সময়ের সাথে এর তীব্রতা কমতে থাকে। এর মাঝেও উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরায় অন্তত পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া শতশত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে। তবে, উপকুলীয় এলাকার বেঁড়িবাধ গুলো রয়েছে এখনও ঝুকিপূর্ণ।

এদিকে, বাগেরহাটের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গাছ পরে সামিয়া আক্তার নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। জেলার ৩৫ হাজার ৫‘শ ২৯ হেক্টও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। মোংলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। সাগর উত্তাল, তবে পানির উচ্চতা তেমন বাড়েনি। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নেয়াদের অনেকেই ফিরেগেছেন বাড়ি-ঘরে। বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ার কারনে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ শনিবার বিকাল থেকেই।

খুলনায় গাছচাপায় দীঘলিয়া ও দাকোপে দু’জন নিহত হয়েছে। কয়রা উপজেলার এক হাজার এবং দাকোপ উপজেলায় অন্তত তিনশ’ কাঁচা-আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বরগুনার ৬টি উপজেলায় দুই শতাধিক কাচা, আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় একটি সাইক্লোন শেল্টারে ১ জন বার্ধক্যজনিত কারনে মারা গেছে। এছাড়াও ৬ উপজেলায় কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বরিশালে ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে দমকা হাওয়া প্রবাহিত হয়েছে। সেসময় একজনের মৃত্যু হয়। ভোলায় ঘর-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। লালমোহন ও চরফ্যাশনে বিধ্বস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক ঘর। আহত অন্তত ১৫জন। এছাড়া ভোলার মেঘনায় ট্রলার ডুবে ১৩ জেলে নিখোজ ও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ঝড়ের সময় ঘরের উপর গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত এবং ভাণ্ডারিয়ায় পানিতে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গোপালগঞ্জে ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি ও ফসলের। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। শরীয়তপুরে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ চাপায় দু’জন নিহত হয়েছে। জাজিরা উপজেলায় কিছু কাচা ঘর ভেঙ্গে পড়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জোয়ারের পানি ঢুকে ১৩টি গ্রাম প্লাবিত। কিছু এলাকায় গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝালকাঠীতে বিষখালী নদীর কাঠালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। বিভিন্ন স্থানে বহু গাছপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। আহত হয়েছে অন্তত তিনজন। পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রবল বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও পানি বৃদ্ধির কারণে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আসা লোকজন বাড়ি ফিরতে পারছে না।

ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় তিনদিন পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেয়া হয়েছে বন্দর জেটিতে জাহাজ প্রবেশের অনুমতিও। এদিকে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামাও সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, রবিবার সারাদিন চট্টগ্রামে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

You may also like

ফোনালাপ বিকৃতভাবে আংশিক প্রচার হয়েছে: নূর

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের দাবি, তার ফোনালাপ