হলি আর্টিজান মামলার রায় আজ, আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

২০১৬ সালের পহেলা জুলাই গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোঁরা হলি আর্টিজানে ঘটে দেশের ইতিহাসের সবচে’ জঘন্যতম জঙ্গি হামলা। এ হামলায় ১৩ বিদেশী নাগরিক, পুলিশের এসি রবিউল, ওসি সালাউদ্দিনসহ হত্যা করা হয়েছিলো ২২ জনকে। ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামের বিশেষ অভিযান শেষে তিন বিদেশিসহ ১৫ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। নিহত হয়েছিলো বন্দুকধারী পাঁচ জঙ্গি।

গুলশান ৭৯ নম্বর রোডের হলি আর্টিজান বেকারি। যেখানে ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই এ দেশের ইতিহাসে জঘন্যতম হামলা করে জঙ্গিরা। সেই রমজানে শুক্রবার ইফতারের পর পর অস্ত্র ও গ্রেনেড ভর্তি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পাঁচ জঙ্গি ঢুকে পড়ে রেস্তোঁরাটিতে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অর্ধ শতাধিক দেশি-বিদেশি নাগরিককে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ এগিয়ে গেলে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান এসি রবিউল এবং ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ। আহত হয় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাতভর দেশজুড়ে ছিল উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। নানাভাবে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতারি গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

পরেরদিন শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রেস্তোঁরার চারপাশ ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে দেয়া হয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও। শুরু হয় কমান্ডো অভিযান অপারেশন থান্ডারবোল্ট। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে, সাজোঁয়াযানসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা রেস্তোঁরার দিকে অগ্রসর হয়। এসময় পরপর বেশকিছু গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। প্রায় এক ঘন্টার কমান্ডো অপারেশনের পর রেস্তোঁরার দিকে এগিয়ে যায় সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুলেন্স। সেখান থেকে একে একে ১৫ জিম্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। জানা যায় তাদের নাম, নিবরাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। জঙ্গিরা রাতভর নির্মমভাবে হত্যা করে ১৭ বিদেশি নাগরিক ও তিন বাংলাদেশীকে। হত্যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় ঘাতকরা। যা কাঁদায় বিশ্ববিবেককে। এদের মধ্যে সাত জন ছিলেন জাপানি নাগরিক।

আহত অনেককেই ভর্তি করা হয়েছিলো সিএমএইচ হাসপাতালে। নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোঁরার জিম্মি সংকটের অবসান হয়েছিলো। রেস্তোঁরা থেকে বিদেশিসহ উদ্ধার করা ২০জনের মরদেহ ১৩টি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএইচে। সেদিনের হামলার দায় স্বীকার করেছিলো আইএস। এ ঘটনায় নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিলো দূতাবাস ও মন্ত্রিপাড়াসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে।

থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো গুলশানসহ সারাদেশে। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক অভিযানে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি’র শীর্ষ সারির নেতা তামিম চৌধুরি, সরোয়ার জাহান, চাকরিচ্যুত মেজর জাহিদ, তানভীর কাদেরি, মারজানসহ বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় ১৫ জন। এদের মধ্যে ১৩ জন হলি আর্টজানে জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিলো বলে দাবি গোয়েন্দাদের। গেলো বছরের শেষদিকে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাত কাটা মাহফুজ, রাজিব গান্ধি, রিগান, রাশেদ ওরফে RASH, রিপন, খালিদ, মিজানুর রহমান ও হাদিসুর রহমান সাগরকে আসামি করে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। আট আসামিই এখন কারাগারে। বর্তমানে জঙ্গিরা সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়লেও সুযোগ পেলে আবার মাথা চাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কায় গোয়েন্দারা।

জিয়া খান, বাংলাভিশন, ঢাকা।

You may also like

ভারতের এনআরসি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ফখরুল

স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে দেশ এখন গণতন্ত্রহীন