জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার জেলায় চারজনের মৃত্যু

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৌলভীবাজার, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় মারা গেছেন চারজন। এদিকে, চাঁদপুরে আরো তিনজন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একজন, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একজন আর সুনামগঞ্জে প্রথমবারের মত একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪ চিকিৎসকের সবাইকে পাঠানো হয়েছে কোয়ারেন্টিনে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বর ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে একজন মারা গেছে। করোনা সন্দেহে তার নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই সাথে তার বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ ওই ব্যক্তি গত ৬ দিন ধরে জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে শুক্রবার ভর্তি হওয়া চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে করোনা আক্রান্ত নয় দাবি করে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ স্বজনদের। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: তাপস কুমার সরকার জানান, রবিবার দুপুরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই রোগী মারা যান। তার ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। স্বজনরা জানায়, ওই নারী এ্যাজমাসহ মূত্রনালীর সংক্রমনে ভুগছিল। চুয়াডাঙ্গা জীবননগরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করেছে পুলিশ। তার দেহের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভৈরব বাজার এলাকায় শনিবার মধ্যরাতে এক ব্যক্তি মারা যান জ্বর সর্দি কাশি শ্বাসকষ্ট নিয়ে। রবিবার দূপুরে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একটি দল করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল ডুলু বাড়ি এলাকায় নারায়নগঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তির সর্দি জ্বর থাকায় তার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, চাঁদপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তি গত ২৬ মার্চ তাঁর কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে সর্দি, জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হন। তারপর কিছুটা সুস্থ হলে ১ এপ্রিল চাঁদপুর সদর উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে শনিবার বিকালে মারা যান। এদিকে, জেলায় করোনায় আক্রান্ত আরো তিনজন রোগী চিহ্নিত হয়েছে।কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ এলাকায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির ছেলে সম্প্রতি গাজিপুর থেকে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মৃত ব্যক্তিসহ তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। জেলায় নতুন করে ৪৫ জনসহ জেলায় মোট ১৯৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এদিকে, একজন চিকিৎসকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়ায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪ চিকিৎসকের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের শূন্যতা পূরণের জন্য নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজশাহী আইডি হাসপাতালে করোনা কর্ণারে গত ২৪ ঘন্টায় ৩জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে।এই ৩জনসহ ৯০জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখন পর্যন্ত রাজশাহীকে কোন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরায় বিদেশ ফেরত আরো নতুন ৯৮ জনসহ মোট তিন হাজার চারশ’ ৭৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে আরো এক হাজার চারশ ৪৬ জনকে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছে তিনজন। গাজীপুরে বিদেশ ফেরত একশ’ ৮২ জনসহ মোট একশ’ ৯১ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। করোনা পজেটিভ সন্দেহে বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছেন একই পরিবারের পাঁচজনসহ মোট ৯জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে রংপুর বিভাগে হোম কোয়ারেন্টিনে ১১শ’ ৬৬ জন। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৭ জনকে। আর প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন একশ’৭৪ জন। আইসোলেশনে ২০ জন। জয়পুরহাটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে আক্কেলপুর এর গোপীনাথপুর হেলথ ইন্সটিটিউটের আইসোলেশনে ৭ জনকে রাখা হয়েছে, প্রতিদিন বাড়ছে কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা। রবিবার নতুন করে আরো ৩৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নতুন করে এক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কয়েকদিন আগে নারায়নগঞ্জ থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঐ নির্মাণ শ্রমিক গোবিন্দগঞ্জের মিরারপাড়া গ্রামের বাড়িতে যায়। ওই নির্মাণ শ্রমিকের বাড়ি ও তাঁকে চিকিৎসা দেয়া এক চিকিৎসকের বাড়ি লক ডাউন করেছে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজে আইসোলেসনে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়া ৩৬ শ্রমিককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিয়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, রবিবার থেকে জেলা প্রশাসন খাগড়াছড়িতে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক যুবকের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাতে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল গফফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৭/৮ দিন আগে ঢাকা থেকে ঐ গার্মেন্টস কর্মী উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে গিয়ে শ্বশুর বাড়িতে হোমকোয়ারেন্টিনে ছিলেন। ওই যুবকের নিজ বাড়ি ও তার শশুর বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

 

You may also like

ভারতীয় পচা পেঁয়াজে ব্যবসায়িদের মাথায় হাত

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় পাঁচদিন বন্ধের পর শনিবার থেকে দেশে