করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে কৃষিতে এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে কৃষিতে এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ – এ মাসের মধ্যে হাওড়ের সাড়ে চার লাখ হেক্টর জমির সব ধান কেটে ফেলা। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষি খাতে ঘোষিত প্রণোদনা প্রান্তিক কৃষকদের কাছে ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎপাদিত সবজির দাম পাওয়া নিশ্চিত করাসহ কৃষকদের হাতে সার-বীজ সময়মত পৌঁছাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে নতুন করে সমন্বয়ের কথা বলছেন তারা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার হাওড়ে ধান আবাদ হয়েছে চার লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এই ধান কাটতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৮৪ হাজার কৃষি শ্রমিকের। হাওড়ের সাতটি জেলায় পাওয়া যাবে এর মাত্র আঠার শতাংশ। প্রতিবারের মত বাকি ৬৫ থেকে ৬৭ হাজার শ্রমিক আনতে হবে বাইরে থেকে। সব শ্রমিক মিলে এই ধান কাটতে সময় লাগবে ২০/২৫ দিন। লক ডাউনে শ্রমিক সংকটের কারনে সময়মত ধান ঘরে তুলতে পারবেন কিনা সংশয়ে কৃষকরা।

আগামী মাসের শুরুতে হাওড়ে বন্যার পূর্বাভাসের দরুন- সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও শক্তি দিয়ে এ মাসের মধ্যে অবশ্যই সব ধান কেটে ফেলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। লকডাউনে অন্যান্য খাতের মত কৃষি খাতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে না গেলেও, এরই মধ্যে সবজিসহ উৎপাদিত পণ্যের মূল্য না পাওয়া, সার-বীজ-ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতিসহ দাম বৃদ্ধির নানা সমস্যা এখন মোকাবেলা করছেন কৃষকরা।

এদিকে করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন কৃষকরা। তবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই ঋণ সহায়তা পাবেন মৌসুমভিত্তিক ফুল-ফল, মৎস, পোলট্রি-ডেইরি ও প্রাণীসম্পদ খাতের চাষীরা। আর কৃষক ছাড়া যেসব উদ্যোক্তা কৃষিপণ্য কিনে সরাসরি বিক্রি করেন তারাও এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাবেন। তবে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিশেষজ্ঞরা প্রান্তিক কৃষকদের সরাসরি নগদ সহায়তার দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই সংকট মুহুর্তে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে আরো জোরালো কার্যক্রমের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

You may also like

সিলেটে গণধর্ষণের আসামি মাহফুজ গ্রেফতার

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলায় মাবুবুর