আম্পানের আঘাতে ৯ জেলায় ১৯ মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে গাছ উপড়ে, দেয়াল চাপা পড়ে এবং পানির তোড়ে খুলনা বিভাগে আটজনসহ ৯ জেলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে উপকূলের বেশক’টি বেড়িবাঁধ। ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটায় কয়েকশ’ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, ১০টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। ভেসে গেছে মৎস্য ঘের। গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগরে গাছের ডাল পড়ে মারা গেছেন এক নারী। চার উপজেলার ২০টি পয়েন্টের বেড়িবাধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি। এদিকে, যশোর চৌগাছার চাঁদপুর গ্রামে আম্পানের তান্ডবে গাছ পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটে চার হাজারের বেশি মাছের ঘের ভেসে গেছে। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর।এছাড়া, আউশের বীজতলা ভেসে, বেড়িবাঁধ ভেঙে, গাছপালা পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আম্পানের আঘাতে মোংলা পশুর নদীর কানাইনগর এলাকার তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাধটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হলে, জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় নদী কূলের চার হাজার বাসিন্দার ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে কয়েক হাজার বিঘার মৎস্য খামার।

জনপ্রতিনিধি আর উপজেলা প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনে কাজ শুরু করছে। এদিকে, আম্পানের তাণ্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশন, লাউডোব, দুবলা ও মরাপশুর ক্যাম্পের জেটি, ঘরবাড়িসহ সুন্দরবনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবন কর্তৃপক্ষ। আম্পানে মেহেরপুরের কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি, ফসল, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ করতে জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ, কৃষি বিভাগ মাঠে নেমেছে।

ঘূর্ণিঝড়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় গাছের ডাল পড়ে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত বেশ কিছু এলাকা। অন্যদিকে, কুয়াকাটার লালুয়া এলাকায় বেড়িবাধ না থাকায় ১০টি গ্রাম এবং নীলগঞ্জ এলাকার বেড়িবাধ ভেঙ্গে নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গেছে। তবে কাঁচা-পাকা কিছু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া, বরিশাল জেলায় আম্পানের তেমন একটা প্রভাব নেই।

ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি ৫ থেকে ৬ ফুট বেড়েছিল। বিষখালি নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত। পুরো জেলায় গত মঙ্গলবার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজদি ও বহু স্থাপনা ভেঙ্গে গেছে। উপরে পড়েছে বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নিয়েছে ৯হাজার লোক।

ঘূর্ণিঝড়ে বরগুনার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম পানির নিচে। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে মুগডাল, বাদাম এবং ভুট্টার ক্ষেত। এদিকে, পিরোজপুরে আম্পানের কবলে পড়ে তিনজন মারা গেছে। আম্পানের প্রভাবে নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশকিছু জায়গা তলিয়ে গেছে। হাতিয়া ইউএনও রেজাউল করিম জানান, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে দুই শতাধিক কাচাঁঘর আংশিক এবং ৪০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

You may also like

করোনায় ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়ালো

করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৩০