স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করতে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পুরো জাতিকে করোনামুক্ত রাখা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে একযোগে কাজ করছে সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলো। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করতে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থাও নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় ২৬ মার্চ থেকে ৬৭ দিনের সাধারণ ছুটি কার্যকর করা হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাধারণ ছুটির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে করোনা রোগীদের পরীক্ষা ও চিকিৎসায় নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। জনগণের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের দেশের সব জেলার সাথে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কথা শোনেন, দেন দিক-নির্দেশনা।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও তদারকি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। করোনায় কর্ম হারানো মানুষের জন্য, ত্রাণ কাজের সমন্বয়ের পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে এই প্রথম প্রতি জেলায় একজন করে সচিবকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় থেকে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় গিয়ে তদারকি করেছেন সংশ্লিষ্ট সচিবরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনায় সাধারণ ছুটির শুরু থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, দরিদ্র কৃষকদের শাক-সবজি বিক্রিতে সহায়তার পাশাপাশি দুর্গম ও পাহাড়ী এলাকার ত্রাণ বিতরণ ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে তারা । করোনার মাঝেই ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা ও দূর্গতদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেয় প্রশাসন।

মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ রোধ ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে প্রশংসা পেয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এমনকি করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনে এগিয়ে আসে পুলিশ ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। গরিব, অসহায় ও সংকটাপন্ন মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে মাঠ প্রশাসন। সাধারণ ছুটিতে কাঁচাবাজার ও দোকানপাটে লোকসমাগমের ঝুঁকি কমাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। করোনার মাঝে লকডাউনের কারণে বোরো ধান সংগ্রহে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। কৃষকের মাঠের ফসল ঘরে এনে দিতে কাজ করেন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা। এছাড়াও করোনার মাঝে মৌসুমী ফল আম বিপণনের কাজ নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে প্রশাসন। সেই সাথে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এই সরবরাহের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে মাঠ প্রশাসন। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সৈয়দ আব্দুল মুহিত, বাংলাভিশন,ঢাকা।

You may also like

২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ২০২০

সকাল ৮:৩০ : অনুষ্ঠান ‘দিন প্রতিদিন’। বেলা ১১:০২