মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মাহবুবে আলম

আইনাঙ্গনের সহকর্মীসহ বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্টজনদের শেষ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গনে জানাযা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। রবিবার সন্ধ্যায় মৃত্যূবরনের পর রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃতরদেহ রাখা হয় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচের মরচুয়ারিতে। সোমবার সকালে শেষ বারের মতো আনা হয় মিন্টো রোডের বাসভবনে। সেখানে তাকে শেষবাবের মত দেখেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব ও গুনগ্রাহীরা।

সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাহবুবে আলম প্রতিটি কর্মদিবসে আদালতে যেতেন সকাল আটটার আগে। সোমবার গেছেন আদালতে। তবে একটু দেরীতে। সোমবার সকাল এগারোটার দিকে তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার প্রায় পঞ্চাশ বছরের কর্মস্থল সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গনে। আইনজীবী এবং অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদিনই তাকে ব্যস্ত থাকতে হতো আদালতে বিভিন্ন আইন, যুক্তি আর প্রতিপক্ষের যুক্তি খন্ডনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু, এদিন ছিলেন নিরব-নিথর হয়ে।

সাড়ে এগারটার দিকে তার জানাযা হয় সুপ্রীককোর্ট প্রাঙ্গনে। অংশ নেন প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েক সদস্য, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও আইনাঙ্গনে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ। জানাযার পর শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় তার মৃতদেহে। প্রধানবিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ শ্রদ্ধা জানানো হয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদিন তার টেবিলে বিভিন্ন ফাইল থাকতো স্তুপাকারে। আর কফিনে পড়েছে শ্রদ্ধার্ঘ্যের স্তুপ। পরে সবার ভালোবাসা, প্রায় পঞ্চাশ বছরের ওকালতি জীবন আর একাত্তর বছরের জীবন পেছনে ফেলে মাহবুবে আলম যাত্রা করেন অনন্তের পথে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

আহাম্মেদ সরোয়ার, বাংলাভিশন, ঢাকা।

You may also like

সাগরে নিম্নচাপ : আগামীকালও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা

নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে,