দেশে বিনিয়োগের সর্বনাশ করছে ক্যাসিনো অর্থনীতি : বিশ্লেষক

ক্যাসিনো অর্থনীতি দেশের বিনিয়োগকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ক্যাসিনোর অর্থের বৈধ উৎস না থাকায় এর বেশিরভাগ বিদেশে পাচার হয়ে যায়। এতে দেশ একদিকে বিনিয়োগের অর্থ হারাচ্ছে, অন্যদিকে কমিশনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানুষের আয় বৈষম্য মারাত্মকভাবে বাড়াচ্ছে। ২০১৮ সালে সুইস ব্যাংক একটি হিসেবে দেয়, যেখানে দেখানো হয়েছে ব্যাংকটিতে এক বছরেই বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১২’শ কোটি টাকা। আর ব্যাংকটিতে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩’শ৫৯ কোটি টাকা। এটি কেন হচ্ছে? তার ধারণা পাওয়া যায় চলমান ক্যাসিনোতে অভিযান দেখে।

চলমান অভিযানে ক্যাসিনো সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক হন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। ক্যাসিনো কর্মকান্ডে তিনি প্রায় ৪১ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। যার বড় অংশ অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে পাচার করেছেন তিনি। রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো ব্যবসার অংশীদার এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার বাসায় অভিযান চালায় RAB। তাদের বাসা থেকে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও সাতশ ত্রিশ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।  ফকিরাপুলে ইয়াং ম্যানস ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক আলোচিত খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া তো রীতিমত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে এমনতিই প্রয়োজনীয় বিনিয়োগই হচ্ছে না। সেখানে ক্যাসিনো দেশের বিনিয়োগকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করছে।  দেশীয় অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে ক্যাসিনো বন্ধ করতেই হবে, অভিমত বিশ্লেষকদের।

You may also like

ভারতের সাথে সুসম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন চায় না বাংলাদেশ: কাদের

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ