শান্তি চুক্তির ২২ বছরেও অশান্ত পার্বত্য এলাকা

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির একুশ বছরেও শেষ হয়নি এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের। পাহাড়ে বন্ধ হয়নি আধিপত্যের রক্তাক্ত লড়াইও। চুক্তির পর গত ২১ বছরে পাহাড়ি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সংঘাত ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘাতে অন্তত সাড়ে সাড়ে সাত শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক প্রাণ হারিয়েছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ছাড়া সংকট নিরসন সম্ভব নয়, বলছেন পাহাড়ি নেতারা। তবে সরকার পক্ষের দাবি, চুক্তির অধিকাংশ ধারাই বাস্তবায়িত হয়েছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি সইয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফ্রেরুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও, এখনো পাহাড়ে ফেরেনি প্রকৃত শান্তি।

দীর্ঘ ২১ বছরে পাহাড়িদের সংগঠন জেএসএস-সন্তু, জেএসএস-লারমা, ইউপিডিএফ-প্রসীত ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের লড়াই এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে সাতশ’রও বেশি মানুষ নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছে। পাহাড়িদের মতে, চুক্তিতে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। শান্তিচুক্তির পরও পক্ষ-বিপক্ষে বিভেদ পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে থমকে দিয়েছে, অভিমত পাহাড়ি নেতাদের। আওয়ামী লীগের দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তি করে অশান্ত পাহাড়কে শান্ত করেছে। সবুজ, স্নিগ্ধ পাহাড়ে হানাহানি বন্ধ হবে ও ফিরে আসবে শান্তি, শান্তিচুক্তির ২২ বছরে দাঁড়িয়ে এই প্রত্যাশাই পাহাড়বাসীর।

 

You may also like

ভারতের সাথে সুসম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন চায় না বাংলাদেশ: কাদের

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ