বাংলাদেশের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়

শেষ পর্যন্ত শেষ হলো অপেক্ষার প্রহরের। প্রথমবার কোন টুর্নামেন্ট অথবা তিনজাতি সিরিজের শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে তিনজাতি সিরিজের ফাইনালে ওয়েষ্টইন্ডিজকে টাইগাররা হারিয়েছে ৫ উইকেটে। দুই তরুণ তুর্কি সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটিং শৌর্যে ভেসে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চোখ রাঙানি। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ক্যারিবিয়ানরা ২৪ ওভারে ১ উইকেটে করে ১৫২ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস ম্যাথডে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাড়ায় ২১০ রানের। যা ৫ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখে টপকে যায় বাংলাদেশ। সাত বছর আগে এই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উইকেটের এক পাশে দাড়িয়ে কেঁদেছেন, কেঁদেছে বাংলাদেশ। তাই হয়তো প্রথম কোন তিনজাতি সিরিজ জয়ের উইনিং শটটা প্রকৃতি তুলে রেখেছিলো তার হাতেই।

২০০৯ থেকে অপেক্ষার শুরু। কখনো তিনজাতি সিরিজ আবার কখনো এশিয়া কাপ। ফাইনালে গিয়েও শিরোপা থেকে গেছে অধরা। এবারো যেন প্রকৃতি শিরোপা উৎসবে বাধা দিতে মুখিয়েই ছিলো। ৫০ ওভারের ম্যাচের দৈর্ঘ নেমে আসলো ২৪ ওভারে। বাংলাদেশের টার্গেট ২১০ রানের। টাইগারদের প্রিয় ফরমেট ওয়ানডের বদলে ক্যারিবিয়ানদের প্রিয় টি-টোয়েন্টির আঙিনায়। সৌম্য সরকার যদিও সব চাপ দ্বিধা দূর করতে শুরু থেকেই আক্রমণে। শৌর্যে বীর্যে বাংলাদেশের পাওয়ার ব্যাটিংয়ের অন্যতম পুরোধা। সঙ্গী তামিম অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে সঙ্গ দিয়ে গেলেন। মাত্র ৩৩ বলের জুটিতে ৫৯ রান। শুরুর গতিটা পেয়ে গেলো বাংলাদেশ।

২৭ বলে অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে নামের পাশে তিন ছক্কায় ৬৬। রানের বোঝাটা কিছুটা কমিয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব নেই দলে। তরুণদের মধ্যে আরো একবার ব্যর্থ সাব্বির। বাকি সিনিয়ররা অবদান রাখলেন অল্প বিস্তর। মুশফিকের ৩৬ রানে বিদায়ের পর সাঁজঘরে ফিরেছেন মিথুনও।

জয়ের পথ থেকে তখনো ৬৭ রান দূরে বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ভরসা হয়ে তখনো উইকেটে। কিন্তু ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে টেনে নেয়ার পণ করেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ষষ্ঠ উইকেটে ৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। রিয়াদের অবদান মাত্র ১৮। শুরুতে উইকেটে থাকার প্রয়োজন মিটিয়েছেন। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন। সৈকতের ঝড়ে লন্ডভন্ড ক্যারিবিয়ান দ্বীপ। ২৩ বলে অর্ধশতক আর ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস মোসাদ্দেক সৈকতকে এনে দিয়েছে ফাইনাল সেরার পুরস্কার।

এর আগে সাকিবের ইনজুরি একদলে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন মোসাদ্দেক। টস জিতে বাংলাদেশ নেয় ফিল্ডিং। শেই হোপ ও এম্ব্রিস ২০ ওভারে তুলে ফেলেন ১৩০। এরপরই বৃষ্টির বাধা। ম্যাচ আবার শুরু হলে ক্যারিবিয়ান তাদের ইনিংস শেষ করে ১ উইকেটে ১৫২ রানে। ছয়বার ফাইনালে গিয়েও শিরোপা জেতা হয়নি। লাকি সেভেনে ভাঙলো অচলায়তন। প্রথমবার শিরোপার হাসি বাংলাদেশের। শেষ নয় অবশ্যই।

You may also like

আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ট্যানারিশিল্প ধ্বংসের মুখে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, ট্যানারি