ছবি তুলে আয় করুন !

ছবি তুলতে কার না ভালো লাগে!  হাতের কাছে ক্যামেরা থাকলে অনেকে শখের বশে হলেও ক্লিক করে বসেন।  শখের সঙ্গে ছবির খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকলে তা আয়ের অন্যতম পথ হয়ে উঠতে পারে।  ক্যামেরা হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন, ঘুরে দেখতে পারেন দেশটাকে।  এতে রথ দেখা ও কলা বেচা দুই-ই হবে।

মাত্র ছয়জনের হাত ধরে ২০০০ সালে সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে এ অনলাইন প্লাটফরম।  বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন শতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী।  পৃথিবীজুড়ে তাদের প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার কনট্রিবিউটর রয়েছে।  যারা নিয়মিতভাবে ছবি সরবরাহ করছেন।  সংরক্ষিত সেই ছবি বিক্রি করে উপার্জন করছেন তারা।

সৃজনশীল ধারণা নিয়ে এগিয়ে চলা অনলাইন মাধ্যমটি বিশ্বাস করে, ‘বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ছবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে’। এরই মধ্যে এই মন্ত্র প্রয়োগ করে সফলও হয়েছে ‘আই স্টক’র উদ্যোক্তারা। ছবি সরবরাহকারী বিশ্বের শীর্ষ দশ অনলাইন প্লাটফরমের প্রথম সারিতে স্থান করে নিয়েছে এটি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নিত্যনতুন সেবাও চালু করছে।

ছবি, ইলাস্ট্রেশন ও ভিডিও তিন ধরনের সৃষ্টিকর্মই অনায়াসে ওই অনলাইন মাধ্যমে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। তবে প্রত্যেকটিই আপনার নিজস্ব ও মানসম্পন্ন হতে হবে।

আই স্টক ফটোর সঙ্গে কাজ করতে চাইলে শুরুতে নাম ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সফল হলে ই-মেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পরের ধাপে অ্যাকাউন্ট অপশনে গিয়ে ইনকাম ট্যাক্স সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই আপনাকে ই-মেইলে চূড়ান্তভাবে নিবন্ধিত হওয়ার তথ্য জানানো হবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ছবি আপলোড অপশনে ক্লিক করলে আবারও ইনকাম ট্যাক্স সাক্ষাৎকারের আদলে শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপটি শেষ করতে হবে। এজন্য শুরুতেই আপনাকে তিনটি নমুনা ফটোগ্রাফ শিরোনাম, ক্যাপশন ও বিস্তারিত বিবরণসহ আপলোড করতে হবে। ছবির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ফাইলের সাইজ ১৬০০ঢ১২০০ পিক্সেল কিংবা কমপক্ষে দুই মেগাবাইট হতে হবে। ওই প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পর আবারও আপনাকে নিশ্চিত করা হবে।

চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পর আপনি শুরুতে ৯৯৯টি ছবি আপলোড করতে পারবেন। সেই হিসেবে শিরোনাম, ক্যাপশন, বিস্তারিত বিবরণ ও কমপক্ষে পাঁচটি ট্যাগসহ প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬৮টি ছবি আপলোড করতে পারবেন। তবে সফলভাবে ওই সাইটে ছবি আপলোড করার পর ছবিটি প্রকাশের জন্য পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো ছবি বাতিল করলে তার কারণও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে ওয়েবসাইটটি। আপনি চাইলে নির্দেশিত ত্রুটিগুলো দূর করে আবারও একই ছবি আপলোড করতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার ছবিটি প্রকাশিত বলে দেখানো হবে।

ইলাস্ট্রেশন ও ভিডিও চিত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য একই পদ্ধতি। নির্দেশিত পথ-পদ্ধতি মেনে চললে আপনার আয়ের অন্যতম একটি উৎস হয়ে উঠবে। প্রতিবার ডাউনলোডের জন্য কমপক্ষে ১০ ডলার পেতে পারেন। অর্থের সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করবে ছবির মান ও ক্রেতাদের আগ্রহের ওপর।

অনলাইনে আয় করা যত সহজ, টাকা হাতে পাওয়া তার চেয়ে কিছুটা কঠিন। বিশেষ করে আমাদের দেশে। কারণ পেপালের মতো নির্ভরযোগ্য অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতি এখনও চালু করা যায়নি। তবে অন্য অনলাইন মাধ্যমগুলোর তুলনায় আই স্টক ফটো থেকে আয় করা অর্থ হাতে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। যেহেতু পেপাল নেই, তাই প্রি-পেইড মাস্টারকার্ড অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর পদ্ধতির যে কোনো একটি বেছে নিতে পারেন। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা নেওয়ায় ঝামেলা কম। পেমেন্ট অপশনে আপনার নাম-ঠিকানাসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিলে প্রতি মাস অন্তর আয়ের টাকা ব্যাংকে জমা হবে। আর ছবি আপলোড থেকে শুরু করে অর্থ তুলে নেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বিষয় আপনাকে ই-মেইলে জানিয়ে দেওয়া হবে। আরও তথ্যের জন্য চাইলে ‘আই স্টক ফটো ডটকম’ istockphoto.com কিংবা কনট্রিবিউটরদের ব্লগে ঘুরে আসতে পারেন।

You may also like

জাতীয় ঐক্য দেখে আতঙ্কিত আ. লীগ : মোশাররফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন